যুগকথা রিপোর্টারঃ
গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক ব্রিজ এলাকায় এস এ পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেড কুরিয়ার সার্ভিস শাখায় অবৈধ অর্থ লেনদেন ও মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ ও ডিবি’র একটি যৌথ দল। রবিবার (২৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১:৩০ টা থেকে দুপুর ২:৩০ টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ সদর সার্কেলের এএসপি সাখাওয়াত হোসেন ও এএসপি হাসানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে শাখাটির ম্যানেজার নূর মোহাম্মদ মঞ্জুকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সাথে কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ লেনদেনের আলামত হিসেবে রশীদ বই , রেজিস্টার ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুরিয়ার সেবার মাধ্যমে নগদ টাকা প্রেরণ সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও এস এ পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার ভিত্তিক মাদক কারবারিদের সাথে জড়িতদের নিকট অর্থ প্রেরণ করে আসছিল। মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের গোপন রাখতে টাকা পাঠানোর সময় প্রেরকের কোনো পরিচয়পত্র বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংগ্রহ করা হতো না। কার্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে শাখা ম্যানেজার নূর মোহাম্মদ মঞ্জু নিজ বাসভবনে বসে এসব অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করতেন। এসব টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা রশিদ বই ব্যবহার করা হয়।পুলিশের জব্দকৃত রশীদ বই ও রেজিস্টার পর্যালোচনা করে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই গোপন ও বেআইনি পদ্ধতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একটি রশীদ বইয়ের একটিতে ৩৬ লাখ ও একটিতে ৩০ লাখ টাকার পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়। রশীদ বইয়ে প্রেরক ও প্রাপকের নাম-ঠিকানা লেখা থাকলেও মূল হোতাদের গ্রেফতার এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তা এই মুহূর্তে প্রকাশ করছেন না। গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ চক্রের সাথে অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মূল নির্দেশদাতারা জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে আটক ম্যানেজারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।