
যুগকথা প্রতিনিধীঃ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুরে বালু ফেলে জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আবু সাঈদ মোল্লার বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সকল নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফের ওই পুকুরে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলার কাজ শুরু করা হয়। জাহেদা বেগম বাধা দিলে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় স্বামীহারা ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জাহেদা বেগম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অভিযোগকারী জাহেদা বেগম টুঙ্গিপাড়া উপজেলার শিঙ্গিপাড়া এলাকার মৃত টুকু মল্লিকের স্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ও সম্পর্কে ভাতিজা আবু সাঈদ মোল্লা তাঁর বাড়ির সামনের পুকুরের জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছেন।
জাহেদা বেগম বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই আবু সাঈদ বিভিন্নভাবে তাঁকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। একপর্যায়ে তাঁর মাছ ছাড়া পুকুরে ড্রেজার বসিয়ে বালু ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের আশ্রয় নেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আবেদনের পর আদালত সংশ্লিষ্ট জায়গার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং গত ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে টুঙ্গিপাড়া থানায় বিষয়টি অবহিত করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জাহেদা বেগমের আরও অভিযোগ, তিনি বিষয়টি জানাতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ঘটনাস্থলে তাঁকে আনতে পারেন নাই। ফলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুকুর ভরাটের কাজ চলল—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ ব্যপারে এলাকাবাসীদের মধ্যে কয়েকজন বলেন, আবু সাঈদ মোল্লা এর আগেও ওই বৃদ্ধার জায়গা দখলের চেষ্টা করেছেন। তাঁদের দাবি, আবু সাঈদের ক্রয় করা সম্পত্তি সে ভোগদখল করে খাচ্ছে এটা তার সম্পত্তি না, বৃদ্ধার পুকুরের জায়গায় অবৈধ ভাবে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করছে সে। সঠিক মাপ দিলে প্রকৃত ব্যপারটা রেরিয়ে আসবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু সাঈদ মোল্লা। তিনি বলেন, যে পুকুরের জায়গা তিনি ভরাট করছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি তাঁর ক্রয় করা সম্পত্তি। পুলিশ নিষেধ করার পর তিনি আর পুকুর ভরাটের কাজ করেননি। শুক্রবার ড্রেজারের পাইপ পরিষ্কার করার জন্য কিছু সময় মেশিন চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি শুধু ড্রেজারের পাইপ পরিষ্কার করার জন্য মেশিন চালানো হয়ে থাকে, তাহলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কেন পুকুরে বালু পড়ল? আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পরও সেখানে ড্রেজার চালানোর সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো—এ নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।