শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গোবিপ্রবি’তে উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন। আয়োজনে গোবর্ণাঢ্যপালগঞ্জে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বৈশাখী আনন্দে টেকেরহাটে ব্যবসায়ীদের শুভেচ্ছা জানালো ইউসিবি ব্যাংক অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা ইয়াবা ও গাঁজাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গোবিপ্রবি’তে গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন গোপালগঞ্জে ৮ বছরেও হয়নি ডেন্টাল কলেজ; বেড়েছে প্রকল্প ব্যয় গোপালগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা  গোপালগঞ্জে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ব্যাপক দুর্নীতি: ২৪ লাখ টাকার হদিস নেই, ভোগান্তিতে ৯০০ পরিবার

সাত উপাচার্যের অংশগ্রহণে গোবিপ্রবিতে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠিত

  • Update Time : বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ১২.২০ পিএম
  • ৪৫৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবম ব্যাচের (নবনীতক ৯) শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা সমাপনী-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের বিদায় বেলায় এক মঞ্চে আসীন হন বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান সাতজন উপাচার্য।

আজ বুধবার দুপুর ১২টায় একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ছাড়াও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকারী উপাচার্যবৃন্দ হলেন- ১. কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী, ২. খুলনা কৃষি বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান, ৩. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, ৪. পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, ৫. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, ৬. রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও ৭. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন তারেক।

এক মঞ্চে একই সঙ্গে এতোজন উপাচার্যকে পেয়ে সমাপনী ব্যাচসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিরি বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর অভ্যাগত উপাচার্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। একই সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তুলে ধরাও আমাদের লক্ষ্য। আমরা জানিয়ে দিতে চাই, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায় এবং অচিরেই দাঁড়াবেই। আমরা ইতোমধ্যে ইউজিসির দুটি হিট (ঐঊঅঞ) প্রজেক্ট পেয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরো প্রজেক্ট পাবো। আমরা আশা করছি, বি ক্যাটাগরি থেকে আগামী অর্থবছরের আগেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, এভাবে একসঙ্গে পুরো সেশনের শিক্ষা সমাপনী আয়োজনের আইডিয়াটি অত্যন্ত চমৎকার। এতে করে একটি ব্যাচের একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ ঘটে। যেখানে সবার একসঙ্গে পরীক্ষা হয়, রেজাল্ট প্রকাশ হয় এবং কোনো সেশন জট থাকে না। আমি এই আইডিয়াটি আমার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।

খুলনা কৃষি বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ এখানে এসেছি সংহতি জানানোর জন্য। আমি নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জীবনে সফলতা কামনা করছি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষার্থীদের বিসিএস দেয়া, বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করা বা ব্যবসা করার লক্ষ্য থাকে। তবে জীবনে কোনো না কোনো কিছু করতেই হবে। এক্ষেত্রে অবসর বলে কোনো শব্দ থাকে না।

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি যখন দেশের বাইরে পড়াশোনা করতাম, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আমি কখনোই দেখিনি। আর বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে কখনো একসাথে সাতজন উপাচার্যকেও বসতে দেখিনি; যা অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর করে দেখিয়েছেন।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল বলেন, আমরা যদি আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করি, আমাদের চাকরি খোঁজার পাশাপাশি এমন কিছু করার মানসিকতা রাখতে হবে, যা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আতিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষা সমাপনী মানেই সব সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। বিশ্বে এমন অনেক নজির আছে, যেখানে এলামনাই থেকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হয়েছে। তাই নিজেকে বিস্তৃত পরিসরে মেলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করার দায়িত্ব নিতে হবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিজকে চেনাই সবচেয়ে বড়ো শিক্ষা। আর শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনই বলে দেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কতোটা জ্ঞান অর্জন করেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, একসঙ্গে এতোজন ভাইস চ্যান্সেলরকে পেয়ে আমরা অনেক সম্মানিত বোধ করছি।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, শিক্ষার্থীরা কখনো চলে যায় না। মাতৃসম প্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান সবসময়ই থাকে।

এর আগে জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় সভাপতি ও প্রাধ্যক্ষগণ, প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, দপ্তর প্রধানগণ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও শিক্ষা সমাপনী উপলক্ষে আজ বুধবার ছাত্রদের কালার ফেস্ট ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

More News Of This Category
2504_jugokatha
© All rights reserved © 2026
IT Support By : JUGOKATHA