
যুগকথা রিপোর্টারঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় কলেমা খচিত পতাকা নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয় জনতা।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে উপজেলার পৌর মার্কেট এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে শতাধিক মোটরসাইকেল অংশ নেয়।আয়োজকদের দাবি, বিশ্বকাপ ফুটবলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করে বিদেশি দেশের পতাকা ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় মুসলিম পরিচয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে পৌর মার্কেট এলাকা থেকে মোটরসাইকেলবহরটি যাত্রা শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অংশগ্রহণকারীরা মোটরসাইকেলে কলেমা খচিত পতাকা বহন করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করেন। পরে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।শোভাযাত্রার সময় বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রাজিয়া খাতুন কওমি মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম ক্বারী বশির বিন সামসুদ্দিন বলেন, “বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের তরুণরা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রকাশ করছে। আমরা মনে করি, এতে অনেক ক্ষেত্রে নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। মুসলমানদের মূল পরিচয় ও আদর্শ স্মরণ করিয়ে দিতেই আমরা কলেমার পতাকা নিয়ে এই শোডাউনের আয়োজন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি।”
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের আয়োজন মানুষকে নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন হতে সহায়তা করবে। তবে সব ধরনের কর্মসূচি যেন শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।”
অপরদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের একটি অংশ। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি পারস্পরিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখাও জরুরি। তারা মনে করেন, ভিন্ন মত ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজস্ব বিশ্বাস ও মূল্যবোধ তুলে ধরা উচিত।কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।