
যুগকথা রিপোর্টারঃ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ঋণের দায় সইতে না পেরে বিদ্যুৎ কান্তি রায় (৫৬) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। নিজের পিতা-মাতার সমাধির পাশের একটি গাছ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ও শিক্ষক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিদ্যুৎ কান্তি রায় উপজেলার পাটগাতি মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি টুঙ্গিপাড়ার দাড়িয়ারকুল গ্রামের গঙ্গা প্রসাদ রায় ও হেমলতা রায়ের ছেলে।গত ২০ জুন (শনিবার) গভীর রাতে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে তিনি ঘুমাতে যান। রাতের কোনো এক সময় তিনি বিছানা থেকে উঠে বাইরে চলে যান। আজ রবিবার (২১ জুন) ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে গিয়ে পিতা-মাতার সমাধির পাশে একটি কামরাঙা গাছে তার মরদেহ ঝুলতে দেখেন।বিদ্যুৎ কান্তি রায়ের স্ত্রী দীপা রায় বলেনগভীর রাতে কখন তিনি আমার পাশ থেকে উঠে বাইরে গেছেন, আমি টের পাইনি। ঋণের বিষয়েও তিনি আমাকে কখনো আগে কিছু বলেননি।এদিকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ কান্তি রায়ের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। তবে তার বেশ কিছু আর্থিক দেনা ছিল বলে এখন আমরা শুনতে পাচ্ছি। ধারণা করা হচ্ছে, সেই মানসিক চাপ থেকেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।জনপ্রিয় ও সদালাপী এই শিক্ষকের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে টুঙ্গিপাড়ার শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্থানীয় সুধীজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে।