সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
টুঙ্গিপাড়ায় ঋণের চাপ সইতে না পেরে প্রধান শিক্ষকের আত্মহত্যা আমি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নই। টুঙ্গিপাড়ায় শাশুড়ির নির্মম নির্যাতনে গৃহবধূ সুমি ঠাঁই হলো বাবার বাড়িতে গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিষয়ক সংলাপে – জেলা প্রশাসক দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে গোপালগঞ্জে সচেতনতামূলক র‍্যালি গোপালগঞ্জে জমি দখলদার ও মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় নেই: এমপি ডা. বাবর” টুঙ্গিপাড়ায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে থ্রী স্টার অর্গানাইজেশনের র‍্যালি ও আলোচনা সভা। গোপালগঞ্জে প্রেমিককে ডেকে নিয়ে স্বামীকে দিয়ে মারপিট করে  গোপালগঞ্জে আলাদীনের চেরাগের ওপর নাম তুহিন গোপালগঞ্জে ট্রাক চাপায় যুবক নিহত

আমি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নই।

  • Update Time : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১১.৫৫ এএম
  • ১৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

যুগকথা রিপোর্টারঃ

 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ সংক্রান্ত সংবাদের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোশারেফ হোসেন মোল্লা। রবিবার (২১ জুন) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোশারেফ হোসেন মোল্লা দাবি করেন, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তাকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, “আমি একজন স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমার মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৩৫০০০৫০৯৪ এবং লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ১০৯০১০২৭৮। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত তালিকায় আমার নাম রয়েছে। অথচ অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি মুক্তিবার্তা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়পত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথিপত্র উপস্থাপন করেন। এসব নথির মাধ্যমে তিনি নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের সত্যতা তুলে ধরেন।
মোশারেফ হোসেন মোল্লা অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের একটি অসম্পূর্ণ তালিকাকে ভিত্তি করে তাকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ২ হাজার ১৬১ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে তার নাম ১৭১ নম্বরে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ও আমার ছোট ভাই ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি এবং দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আমাদের পরিবারের একাধিক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ইতিহাসকে অস্বীকার করে আমাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীরা তার বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। এমনকি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হয়নি। এতে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত মানদণ্ড লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় তিনি প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং তার মানহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নিকট চার দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত বক্তারা প্রকাশিত সংবাদের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

More News Of This Category
2504_jugokatha
© All rights reserved © 2026
IT Support By : JUGOKATHA