স্টাফ রিপোর্টারঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক চোরাই মালামাল ও ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মুকসুদপুরের পূর্ব মহারাজপুর ও হরিশ্চর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুকসুদপুর থানার পূর্ব মহারাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলামিন শেখ (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মো. কালাম শেখ ও চায়না বেগম ওরফে চানোর ছেলে।
এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি ছোরা (চাইনিজ কুঠার) ও দুটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের ১৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, তিনটি আইফোন, চারটি ট্যাব, সাতটি বাটন ফোন, ১০টি হাতঘড়ি, ১১টি মানিব্যাগ এবং বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মূল্যমানের ৭৭টি মুদ্রার নোট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশি নগদ ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলামিন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও মাদকসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
অন্যদিকে, একই দিন ডিবির অপর একটি দল মুকসুদপুর থানার হরিশ্চর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক চোরাই মালামাল এবং ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে চুরি, ছিনতাই, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান রয়েছে।”এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, গোপালগঞ্জ, সহকারী পুলিশ সুপার মো: হাসানুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানা মো: আমিনুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র দেবনাথসহ সংস্লিস্ট কর্তিপক্ষ ও গোপালগঞ্জ জেলায় কর্মরত সকল গনমাধ্যম কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।গ্রেপ্তার আলামিন শেখের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরদিকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার নারীর বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।