
যুগকথা রিপোর্টঃ
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতাহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মে ২০২৬ পর্যন্ত বিশেষ প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের প্রেস ব্রিফিং থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং খাল খননসহ একাধিক খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও ফ্যামিলি কার্ড
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি জোরদার করেছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে উপকারভোগীরা সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন।
কৃষিখাতের আধুনিকায়নে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া বিভিন্ন উপজেলায় ২২,৩৯৪ জন কৃষকের মাঝে ডিজিটাল ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘবে সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলায় ৬টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ৭,৩০৩ জন কৃষকের ৬৬,৮৪,০০০.২৬ টাকা ঋণ মওকুফ করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক একাই ৫,২৮৩ জন কৃষকের ঋণ মওকুফের আবেদন বিবেচনাধীন রেখেছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মে ২০২৬ থেকে ‘এক কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জে ইতোমধ্যে ২৫ কি.মি. বনায়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি সেচ নিশ্চিত করতে জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএডিসির তথ্যমতে, গোপালগঞ্জে বিভিন্ন খালের প্রায় ৩৩১.৬৭ কি.মি. খনন কাজের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার একটি বড়ো অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় কৃষি জমিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নারীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে ইশতাহার অনুযায়ী বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও এটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি, তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এটি নিয়ে কাজ চলছে, যা নারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের এই উন্নয়ন পরিক্রমা বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থ-সামাজিক চিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সঠিক তদারকির মাধ্যমেই এই ইশতাহারের শতভাগ প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এই সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ-উজ-জামান, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ূন রশীদ, গোপালগঞ্জ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অসিত কুমার সাহা, কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মুহাম্মদ মামুনুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক উপস্থিত ছিলেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ