সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গোপালগঞ্জে এস এ পরিবহনের কুরিয়ার সার্ভিস শাখায় পুলিশের অভিযান। ক্লেমনের উদ্যোগে গোবিপ্রবিতে ১ হাজার বৃক্ষরোপণ  গোপালগঞ্জে ৬৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার কোটালীপাড়ায় ৩ দিনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত। টুঙ্গিপাড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দখলদারদের পুকুর ভরাট, অভিযোগে ভুক্তভোগী। গোপালগঞ্জে ১৫ আগস্টকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার  সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের প্রতিনিধি দলের সাথে নেপালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের সাথে মতবিনিময়। গোপালগঞ্জের দুই শিক্ষক প্রাইভেট এবং গাইডবই অবৈধ হলেও পড়াবেন বলে সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ করলেন সোনালী আঁশে ফিরছে  কৃষকের স্বপ্ন দুইটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার: চোর চক্রের দুই সদস্য আটক

টুঙ্গিপাড়ায় শাশুড়ির নির্মম নির্যাতনে গৃহবধূ সুমি ঠাঁই হলো বাবার বাড়িতে

  • Update Time : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৫.১২ পিএম
  • ১৫৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

যুগকথা প্রতিনিধিঃ

বিছানায় প্রস্রাব করায় দেড় বছরের শিশুকে মারধর, আর তার প্রতিবাদ করায় চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে গৃহবধূকে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ির বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে বাবার বাড়ির লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার হয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ সুমি বেগম (২৮)।
​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা গ্রামের জামির শেখের মেয়ে সুমি বেগমের সঙ্গে ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামের সিরাজ ফকিরের ছেলে সোহাগ ফকিরের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের শুরুতে কিছুটা সুখ থাকলেও বড় মেয়ে মিমের জন্মের পর থেকেই সুমির ওপর নেমে আসে যৌতুকের খড়্গ ও অমানুষিক নির্যাতন। শাশুড়ি রিনা বেগমের প্ররোচনায় ও দাবির মুখে বাবার বাড়ি থেকে অতি কষ্টে ১ লাখ টাকা এনে স্বামীর হাতে তুলে দেন সুমি। কিন্তু তাতেও মন গলেনি শাশুড়ি রিনা বেগমের। বিভিন্ন অজুহাতে সুমির ওপর প্রায়ই চলত নির্যাতন।
​জীবিকার তাগিদে সুমির স্বামী সোহাগ ফকির ঢাকায় চাকরি করেন। নির্যাতনের বিষয়গুলো স্বামীকে জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো মায়ের পক্ষ নিয়ে সুমিকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এভাবে চার সন্তানের জননী সুমি বেগম দীর্ঘ ১১টি বছর মুখ বুজে সহ্য করেছেন অমানুষিক এই অত্যাচার।
​সর্বশেষ আজ ২০ জুন (শনিবার) সকালে সুমি বেগমের ছোট মেয়ে ছাবিহা (দেড় বছর) বিছানায় প্রস্রাব করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করেন শাশুড়ি রিনা বেগম। এত ছোট শিশুকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়ি সুমি বেগমকে চেয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন সুমি। পরে খবর পেয়ে সুমির বাবার বাড়ির লোকজন শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে গওহরডাঙ্গা গ্রামে নিয়ে আসে।
​ভুক্তভোগী সুমির মেজো মেয়ে সুমাইয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, দাদু প্রায়ই আম্মুকে আর আমাদের মারধর করে। সকালে আমার ছোট বোন বিছানায় প্রস্রাব করায় দাদু তাকে পাঁচটা চড় মারে। আম্মু বাধা দিলে আম্মুকে চেয়ার দিয়ে বাড়ি মারে। আম্মু অনেক ব্যথা পেয়ে কাঁদছিল। আমাকেও দাদু মেরেছে, আমি খুব ভয় পেয়েছি। সুমির ছেলে আলিফও জানায়, তাদের মায়ের সাথে দাদু সবসময় খারাপ ব্যবহার ও মারধর করে।
​স্থানীয় প্রতিবেশী লাখি বেগম বলেন, সকাল থেকেই ওই ঘরে চিল্লাচিল্লি শুনছিলাম। বউটা খুব কান্নাকাটি করে পরে আমাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। আরেক প্রতিবেশী সনি বেগম বলেন, উনার শাশুড়ি খুব খারাপ প্রকৃতির মানুষ। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ওই বৌকে মারধর করে। আমরা এসব ঝামেলার জন্য ওনাদের বাড়ির আশেপাশেও যাই না। বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার চলছে।
​এর আগেও শাশুড়ির এই নির্যাতন বন্ধে স্থানীয় মাতবরদের নিয়ে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক করে সুমিকে ওই সংসারে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি সেনাবাহিনীর কাছে বিচার চেয়েও শাশুড়ির এই নিষ্ঠুর আচরণ পরিবর্তন করা যায়নি।

এদিকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত শাশুড়ি রিনা বেগম বলেন, আমার তিন নাতিন-নাতি বড় হয়ে গেছে, ওদের সাথে তো আর ইয়ার্কি করা যায় না। ছোট নাতিটা বিছানায় প্রস্রাব করায় আমি শুধু দুষ্টুমি করে বলেছিলাম তুই যে বিছানায় হিসু করিস, আগে বলতে পারিস না? এই বলে দুষ্টুমি করে দুই-তিনটা চড় মেরেছি। তাতেই আমার ছেলের বউ আমার সাথে ঝগড়া শুরু করে। উল্টো সে আমাকে খামচি দিয়েছে ও মারধর করেছে, তাই আমিও তাকে মেরেছি।

ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম শেখ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
​জানতে চাইলে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আইয়ুব আলী বলেন, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

More News Of This Category
2504_jugokatha
© All rights reserved © 2026
IT Support By : JUGOKATHA