বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গোবিপ্রবিতে মাসের ব্যবধানে ২ ভিসি পরিবর্তন, নতুন ভিসি ড. মো. সোহেল হাসান গোপালগঞ্জে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (সমাজসেবা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম।  গোপালগঞ্জে এস এ পরিবহনের কুরিয়ার সার্ভিস শাখায় পুলিশের অভিযান। ক্লেমনের উদ্যোগে গোবিপ্রবিতে ১ হাজার বৃক্ষরোপণ  গোপালগঞ্জে ৬৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার কোটালীপাড়ায় ৩ দিনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত। টুঙ্গিপাড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দখলদারদের পুকুর ভরাট, অভিযোগে ভুক্তভোগী। গোপালগঞ্জে ১৫ আগস্টকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার  সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের প্রতিনিধি দলের সাথে নেপালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের সাথে মতবিনিময়। গোপালগঞ্জের দুই শিক্ষক প্রাইভেট এবং গাইডবই অবৈধ হলেও পড়াবেন বলে সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ করলেন

প্রবাস জীবনের ইতি টেনে খামারি নাজিম বছরে ১০ লাখ টাকা লাভের হাতছানি

  • Update Time : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৯.৩০ এএম
  • ২১৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

যুগকথা রিপোর্টারঃ

​বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি না খেটে সেই শ্রম নিজের দেশের মাটিতে দিতে পারলেই যে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার যুবক মোঃ নাজিম মুন্সি। দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে গড়ে তুলেছেন ‘ফাহাদ এম ফার্ম’ নামক একটি গরুর খামার। তবে অভাবনীয় এই সাফল্যে খামারির পাশে দাঁড়ায়নি স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর— এমনটাই অভিযোগ এই উদ্যোক্তার।
​প্রবাস থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প
২০১৭ সালে ভাগ্যান্বেষণে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নাজিম মুন্সি। প্রবাসে থাকাকালীন ইউটিউবে বিভিন্ন গরুর খামারের ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। তখনই সিদ্ধান্ত নেন, প্রবাসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে আয় করেন, তার চেয়ে সামান্য কম হলেও দেশে মা-বাবার সাথে থেকে নিজের উদ্যোগে কিছু করবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালে ৫টি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। ২০২৪ সালে গরুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২টিতে। বর্তমানে তার খামারে ১৫টি বিশালাকায় গরু কোরবানির হাটে ওঠার জন্য প্রস্তুত।
​বিশালদেহী গরুর সংগ্রহ ও খাদ্যাভ্যাস
সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, নাজিম মুন্সির সংগ্রহে থাকা গরুগুলো উচ্চতা ও ওজনে বেশ নজরকাড়া। খামারের অধিকাংশ গরুই ৭ ফুট লম্বা এবং ৫ ফুট উচ্চতার। কোনোটির ওজন ১৪ থেকে ১৫ মণ, আবার কোনোটি ১০ থেকে ১২ মণের। খামারে রয়েছে উন্নত জাতের শাহীওয়াল, গির এবং ৩টি ব্রাহামা গরু। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস, খড় ও ভুষি খাইয়ে কোনো প্রকার ক্ষতিকর হরমোন ছাড়াই গরুগুলোকে লালন-পালন করা হয়েছে।
​খামারে সফলতা থাকলেও নাজিম মুন্সির মনে রয়েছে ক্ষোভ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে মাসের ১ লাখ টাকা আয়ের চেয়ে দেশে ৮০ হাজার টাকা আয় করা অনেক আরামের। বিদেশের খাটুনির তিন ভাগের দুই ভাগ শ্রম দেশে দিলে দ্বিগুণ আয় সম্ভব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমি নিজ উদ্যোগে এত বড় খামার করলেও আজ পর্যন্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। কোনো মাঠকর্মী বা কর্মকর্তা পরামর্শ দিতেও আসেননি। সরকারি তদারকি ও কারিগরি সহায়তা পেলে খামারটি আরও বড় করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
​আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরুগুলোকে বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছেন নাজিম। তার প্রত্যাশা, উপযুক্ত দাম পেলে এবার কোরবানির মৌসুমে গরুগুলো বিক্রি করে তার প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মুনাফা হবে।
​অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। কোনো মন্তব্য না করে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আপনার যা ইচ্ছা আপনি তা-ই লেখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

More News Of This Category
2504_jugokatha
© All rights reserved © 2026
IT Support By : JUGOKATHA