
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির গ্রামে ৫ম শ্রেণির ছাত্র রিমাজ শেখ মুখে পেট্রোল নিয়ে আগুনে ফু দিয়ে ম্যাজিক দেখানোর সময় সামনে থাকা সহপাঠী মারুফ শেখের মুখে গালে আগুন লেগে গুরুত্বর আহত হওয়ারমুকসুদপুরে ঘটনায় সহপাঠী রিমাজ শেখকে বয়স ১৯ বছর দেখিয়ে আসামি করে থানায় মামলা করে আহতের মা মুঞ্জু বেগম। আগুন লাগার ঘটনার মামলায় সহপাঠী রিমাজ শেখ (১২)কে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় মুকসুদপুর থানা পুলিশ।
গত ৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে ননীক্ষীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে ব্রিজের উপর এ ম্যাজিক দেখতে গিয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। শিশু ছেলেকে জেল থেকে ছাড়াতে অসহায়ের মত আদালত পাড়ায় ঘুরছে গ্রেফতার রিমাজের মা বাবা।
মামলা সুত্রে ও মামলার বাদী আহত মারুফের মা মুঞ্জু বেগম জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে আমার ছেলে মারুফ শেখ স্কুলে যাওয়ার পথে স্কুল সংলগ্ন ব্রিজের উপর তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যাচেষ্টা করে রিমাজ শেখ। এ সময় রিমাজের পিতা আলী শেখ ও তার মাতা নাছিমা বেগম আমার ছেলেকে মারপিট করে।
পুলিশে গ্রেফতার হওয়া ৫ শ্রেণীর ছাত্র রিমাজের মা নাছিমা বেগম বলেন, ঘটনার দিন আমি ও আমার স্বামী কেউই বাড়িতে ছিলাম। দুপুরে এই দূর্ঘনা ঘটে কিন্তু আমরা বাড়ি না থাকায় ওই দিন সন্ধ্যায় মারুফের বাবা মা আমার শিশু ছেলে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে বেধড়ক মারপিট করে ছেড়ে দেন। আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমার জামাই মাদারীপুর নিরাময় হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা করে। তিন পর সুস্থ হয়ে বাড়িতে আনলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
তিনি আরও বলেন, এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে আমার স্বামীকে আসামি করে থানায় মামলা করে। কিন্তু ঘটনার দিন আমি ও আমার স্বামী কেউই বাড়িতে ছিলাম না। আমি আমার শিশু সন্তানের মুক্তির জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহায়তা কামনা করছি।
ননিক্ষীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শোভা রানী বিশ্বাস বলেন, ঘটনার দিন দুই ছাত্র কেউ স্কুলে আসেনি। স্কুলের পাশে ব্রিজের উপরে তারা মুখে পেট্রোল নিয়ে ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে গায়ে আগুন লেগেছে। আমরা ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে তাদেরকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আপোষ মীমাংসা হওয়ার জন্য বলেছিলাম।
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মারুফ ও রিমাজের সহপাঠী রকিবুল ইসলাম বলেন, রিমাজ মুখে পেট্রোল নিয়ে আগুনে ফু দিয়ে ম্যাজিক দেখানোর সময় তার সামনে থাকা মারুফের মুখে ও গায়ে আগুন লেগে যায়। তারা দুইজন মিলে ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে যায় মারুফ।
বাচ্চারা খেলার ছলে মুখে পেট্রোলে নিয়ে ফু দিয়ে ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে গায়ে আগুন ধরার ঘটনায় মামলা হওয়া ও ১২ বছরের শিশুকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। ঘটনা সুস্থ তদন্ত দাবি করে গ্রেপ্তার রিমাজের মুক্তি দাবি করছে তারা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুকসুদপুর থানায় এসআই মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রিমাজ শেখ নিজে ৬০ টাকা দিয়ে পেট্রোল কিনে আনে। মুখে পেট্রোল নিয়ে সামনে আগুন রেখে ফু দিয়ে ম্যাজিক দেখানোর সময় সামনে থাকা মারুফ শেখের গায়ে ও মুখে আগুন লেগে যায়। তবে মামলার অপর আসামি রিমাজের বাবা মা এ ঘটনার সাথে জরিত না। আমরাও চেয়েছিলাম বাচ্চাদের ঘটনা এলাকাবাসী মিমাংসা করুক।