
কোটালীপাড়া প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোটালীপাড়ায় পৃথক দুটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ও বিকেলে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে কমলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতনের সততা মিলনায়তনে গণভোট–২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণের প্রশিক্ষণ এবং সকল শিক্ষক কর্তৃক উঠান বৈঠক আয়োজন সংক্রান্ত অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত।
সভায় উপজেলার ১৮৭ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, শিক্ষকরা সমাজের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিনিধি। গণভোট ও নির্বাচনের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, শিক্ষক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। প্রতিটি বিদ্যালয় ও শিক্ষকের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
এদিকে দুপুরে উপজেলা পরিষদের লাল শাপলা হলরুমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে সমাজের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আরেকটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মোঃ মাসুম বিল্লাহ, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সহকারী নির্বাচন অফিসার নাসিরউদ্দিন এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, গির্জা ও মন্দিরের ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিতে না পড়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
দুটি সভায়ই গণভোট ও নির্বাচনের গুরুত্ব, ভোটাধিকার প্রয়োগ, সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।