
যশোর প্রতিনিধিঃ
যশোর শহরের বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে যশোর শহরের গরিব শাহ মাজারের সামনে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। অগ্নিসংযোগের এ ঘটনার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের কয়েকজন নেতা বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় যশোর জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় স্মৃতিস্তম্ভের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অগ্নিসংযোগে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে, ঘটনার পর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন এএসআই (সশস্ত্র) জাহিদুল ইসলাম ও নায়েক মুসা বিশ্বাস। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে কী ধরনের অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই শহরজুড়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্নগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।