
সৌরভ মুন্সী, রিপোর্টার: গোপালগঞ্জ-২ আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রদানের কিছুদিনের মধ্যেই উক্ত মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও শোডাউন করেছেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত ৩ প্রার্থী। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জে শহরের গেটপাড়া সড়ক ভবনের সামনে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা জনপদে থাকে। পরে উক্ত স্থান থেকে থেকে মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এ শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।
গোপালগঞ্জ ২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ৫ হেভি ওয়েট প্রার্থী হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও এমপি এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, বিএনপির সাবেক সভাপতি ও এমপি এম এইচ খান মঞ্জু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজ ও স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সরদার নুরুজ্জামান। আজ বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ ২ আসনের ত্যাগী এসব নেতাকর্মীদের ব্যানারে শোডাউনের আয়োজন করা হয়।
উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও মোটর শোভাযাত্রায় অংশ নেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এইচ খান মঞ্জু, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজ। প্রায় ৫ থেকে ৬ শত মোটরসাইকেল, ২৫–৩০টি মাইক্রোবাস এবং কয়েকটি মিনি পিক আপ এবং ট্রাক এ শোডাউনে অংশ নেয়।

(গোপালগঞ্জে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে; বিএনপির হেভি ওয়েট নেতাদের বিক্ষোভ ও শোভাযাত্রা)
এর আগেগত তিন নভেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপি’র পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জ-২ আসন থেকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. কে এম বাবর’কে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গোপালগঞ্জ ২ আসনে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে নানা ধরনের গুঞ্জন ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে আসছিল। প্রাথমিক প্রার্থী মনোনয়নের ২৪ দিন পর এসে মনোনয়ন বঞ্চিত ৫ জন বিএনপি প্রার্থী একত্রিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
বিক্ষোভ মিছিল ও মোটর শোডাউনে অংশ নিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু বলেন, আমরা বিএনপি’র পাঁচজন প্রার্থী আজ একটি দাবিতে একত্রিত হয়ে গোপালগঞ্জ ২ আসনের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করার জন্য তারেক রহমানের কাছে আবেদন করছি। ডা. বাবর একজন জনবিচ্ছিন্ন ও অচেনা প্রার্থী। তার পক্ষে ধানের শীষের বিজয় আনা সম্ভব নয়।
গোপালগঞ্জ ২ আসন থেকে বিএনপির পর পর তিনবার সংসদ নির্বাচন প্রার্থী এম সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের রক্ত ও ত্যাগের ভিত্তিতেই গোপালগঞ্জে বিএনপি নামক দলটি টিকে আছে। বিগত ১৭ বছর আমরা নানাভাবে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা অনেক অত্যাচারিত হয়েছি। ঘরে থাকতে পারিনি, ঘর বাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বাধ্য হয়েছি গোপালগঞ্জ ত্যাগ করতে কিন্তু দলের দুঃসময়ে দলকে ছেড়ে যায়নি। গোপালগঞ্জ ২ আসনে যাকে প্রাথমিক নোমিনেশন দেওয়া হয়েছে সে জনবিচ্ছিন্ন একজন প্রার্থী, চাঁদাবাজ, মামলাবাজ। তাকে গোপালগঞ্জের-২ আসনের সাধারণ কোন জনগণ চেনে না তার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় অবৈধ অস্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় জনগণ এবং বিএনপির সমর্থকেরা প্রার্থীতা পূনঃ বিবেচনার জন্য আজকে আমরা মনোনয়ন বঞ্চিত পাঁচজন প্রার্থী এর প্রতিবাদে মোটর শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভমিছিল পালন করছি।
আশা করি দেশরত্ন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমান গোপালগঞ্জ ২ আসনটি নিয়ে পুনরায় বিবেচনা করবেন।