মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গাইড বই কাণ্ডে তোলপাড় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ সম্মাননা পেলেন মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। মহান শহীদ দিবসে প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের পুষ্পস্তবক অর্পণ গোপালগঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় খাদেমুল ইসলাম ইমাম পরিষদের গোপালগঞ্জে বাস–ট্রাক সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ পেট্রোল দিয়ে ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে গায়ে আগুন : মামলায় ৫ম শ্রেণির ছাত্র জেলে ডাঃ বাবরকে ‘স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে দেখতে চায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ ডিজিটাল বিপ্লবের নেপথ্য নায়ক ডক্টর জিয়াউদ্দিন হায়দার: শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবির হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

গাইড বই কাণ্ডে তোলপাড় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

  • Update Time : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৯.৪৯ পিএম
  • ২০ জন সংবাদটি পড়েছেন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের চাপে নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ তোলায় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী অভিভাবক নেতা মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে শিক্ষকদের এক অংশ।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শিল্পকলা প্রাঙ্গনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কোটালীপাড়ার ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমিতির সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কোটালীপাড়া প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সঙ্গে সঙ্গে জন সাধারনের নজরে পড়ে বইতে থাকে আলোচনার ঝড়।
ফেসবুকে তাকে লিখতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নিষিদ্ধ গাইড বই কোম্পানির প্রতিনিধিকে নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
পরদিন সোমবার সকালে একই বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাংবাদিক জুয়েল । অভিযোগে বলা হয়, লেকচার প্রকাশনীর এক প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কেনার জন্য প্ররোচিত করেন এবং পরবর্তীতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
সাংবাদিক জুয়েলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারী ও সহকারী শিক্ষক রসময় রত্নের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের হয়রানি ও আতঙ্কিত করছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল দৈনিক কালবেলাকে বলেন, “আমি বিদ্যালয়ের অভিভাবক-শিক্ষক এসোসিয়েশনের (পিটিএ) সভাপতি হিসেবে অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা।
যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তা তদন্ত হওয়া উচিত। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে শিক্ষকদের মানববন্ধনের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ফিরোজ দাড়িয়া নামের এক ব্যক্তি লেখেন, “এটা সাংবাদিক জুয়েলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। হয়রানির কোনো কারণ তারা প্রকাশ করতে পারেনি।”
কাজী মোস্তাফিজ নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, “সাংবাদিক মনিরুজ্জামান জুয়েল একজন স্পষ্টভাষী, সৎ ও সাহসী সাংবাদিক। তিনি শিক্ষকদের অমঙ্গল চান—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।”
এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাইড বই ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের প্ররোচনার সাংবাদিক জুয়েলের একটি লিখিত অভিযোগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিক জুয়েলের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মানববন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তার দপ্তরে জমা পড়েনি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে গাইডনির্ভর শিক্ষা শিশুদের সৃজনশীলতা ব্যাহত করে এবং এটি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে, প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়ে
শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

More News Of This Category
2504_jugokatha
© All rights reserved © 2026
IT Support By : JUGOKATHA