ডেক্স রিপোর্ট: গোপালগঞ্জে আলোচিত শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
প্রায় ১০ বছর আগে গোপালগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান বাসু কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।
একইসঙ্গে চার আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুর রশীদ মোল্লা এ তথ্য জানান।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন— বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী এবং ঝন্টু শেখ।
আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মিন্টু শেখ, কেনাই মোল্লা, আলীমুজ্জামান বিটু এবং প্রিন্স খাঁ কে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ইকবাল খাঁ, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আক্রাম আলী, হাবিল কাজী, বুলগান কাজী, সজিব শেখ, পনির শেখ, সিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ওরফে রাশেদ খাঁ এবং শওকত শেখ।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাশেদ শেখ ও টুটুল শেখ পলাতক রয়েছেন। তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই রায় কার্যকর হবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন। বাকি ১৮ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাঁদের সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানায় বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ মামলা করেন। ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট গোপালগঞ্জ দায়রা জজ মো. দলিল উদ্দিন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। বিচার চলাকালে ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস থেকে মৌলভীপাড়ার বাসায় ফেরার পথে বাসুকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় একদল হামলাকারী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানায় বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ মামলা করেন। ২০১৬ সালের ১২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক হযরত আলী ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট গোপালগঞ্জ দায়রা জজ মো. দলিল উদ্দিন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়।
রায় ঘোষণার পর থেকে সাধারণ শ্রমিকগন স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন দীর্ঘদিন পরে হলেও প্রকৃত অপরাধীদের বিচার এর রায় হয়েছে এতে আমরা খুশি। অনতিবিলম্বে উক্ত আসামীদের গ্রেফতারপূর্বক রায় উল্লেখ্য শাস্তি কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সম্পাদক : শেখ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, গোপালগঞ্জ সদর, গোপালগঞ্জ।
অফিস: ০২-৪৭৯৯৬১৪১, মোবাইল: ০১৯১১-৩৩২১৮৫, ইমেইল: mahbubpress66@gmail.com