গোপালগঞ্জ থেকে আরিফুল হক: "ব্যক্তিগত অর্জন নয়, মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষাই আমার লক্ষ্য" কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুল
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ–২ আসনের রাজনীতির মাঠে এখন নতুন হাওয়া। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সফল ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের পরিচিত মুখ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুল এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অতি সম্প্রতি তাঁর রাজনৈতিক পথচলা, অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একান্ত কথা বলেছেন আমাদের সাথে। সেই আলাপচারিতার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: আপনি আইসিটি ও ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। হঠাৎ জাতীয় রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপট কী?
কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুল: দেখুন, জাতীয় রাজনীতিতে আসা আমার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। আমি ৪নং চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নের সন্তান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার লক্ষ্য ছিল আইসিটি ও সংগঠনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। তবে ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কাজ করা এবং পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমি মানুষের যে ভালোবাসা ও অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি, তা আমাকে নতুন করে ভাবিয়েছে। মাত্র ২৮ দিনের সংক্ষিপ্ত প্রচারণায় গোপালগঞ্জের মানুষ আমাকে যে পরিমাণ আস্থা উপহার দিয়েছেন, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাকে আমি এখন নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। মানুষের সেই প্রত্যাশা আর স্নেহের প্রতি সম্মান জানিয়েই আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রশ্ন: রাজনীতির এই পথচলায় আপনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, এমনকি দু’বার কারাবরণ করেছেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুল: আমি মনে করি, প্রতিকূলতাই মানুষকে পূর্ণতা দেয়। কারাবরণকে আমি শাস্তি হিসেবে নয়, বরং বাস্তবতা উপলব্ধি করার একটি বড় শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করেছি। কারাগারের সেই দিনগুলো আমাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল, ধৈর্যশীল এবং মানবিক হতে শিখিয়েছে। জেল-জুলুম আমাকে মানুষের সেবা করার সংকল্প থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে। এমনকি প্রতিকূল সময়েও আমি আমার সীমিত সামর্থ্য নিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
প্রশ্ন: আপনার রাজনৈতিক দর্শন বা নির্বাচনি কৌশল কী হবে?
কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুল: আমার দর্শন খুব পরিষ্কার, আমি কাদা ছোড়াছুড়িতে বিশ্বাসী নই। আমি কারো বিরুদ্ধে কটূক্তি বা দোষারোপের রাজনীতি করতে আসিনি। আমার লড়াই হবে নিজের কাজ, ইতিবাচক আচরণ এবং দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করা। আমি বিশ্বাস করি, গোপালগঞ্জ সবার। এখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, কিন্তু জেলার উন্নয়ন, শান্তি আর জনকল্যাণের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে এক সুতোয় গাঁথা থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ মানেই হলো একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রদর্শন করা।
প্রশ্ন: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুল: আমি আশাবাদী যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গোপালগঞ্জে একটি উৎসবমুখর, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন, এটা কেবল আমার নয়, পুরো গোপালগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা। বিশেষ করে সাংবাদিক ভাই-বোনদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখতে ভূমিকা রাখবেন।
প্রশ্ন: গোপালগঞ্জ-২ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার বিশেষ কোনো বার্তা আছে?
কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুল: আমি মনে করি, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চিন্তা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটিয়েই গোপালগঞ্জকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আমি শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে আসিনি, আমি আপনাদের দোয়ার অংশীদার হতে চাই। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি। আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর গোপালগঞ্জ গড়ি। আল্লাহ নিশ্চয়ই উত্তম ফয়সালা করবেন।
সম্পাদক : শেখ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, গোপালগঞ্জ সদর, গোপালগঞ্জ।
অফিস: ০২-৪৭৯৯৬১৪১, মোবাইল: ০১৯১১-৩৩২১৮৫, ইমেইল: mahbubpress66@gmail.com