যুগকথা রিপোর্ট: বিদেশে নেয়ার নাম করে প্রতারণা, প্রবাসী কল্যাণ আইন লঙ্ঘন করে মানব পাচারের অভিযোগ। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন।
গোপালগঞ্জ জেলার পাইকান্দি ইউনিয়নের চর পুকুরিয়া গ্রামের এনামুল খাঁ (পিতা: মৃত তৈয়ব খা)–এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণা ও অবৈধ আদম ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে বহু প্রবাস প্রত্যাশীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আকামা বিহীনভাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেন, পরে তাদেরকে সেখানকার মরুভূমির ভেতরে কাজ, বাসস্থান ও বৈধতা ছাড়াই ফেলে রাখেন।
এ ব্যাপারে শুক্রবার সকাল ১১ টায় ভুক্তভোগীদের বাসস্থানে তারা সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য তুলে ধরে। এ সময় তারা দাবি করে বলেন আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই অথবা আমাদের স্বজনদের আকামা দিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হোক। এ সময় তারা আরো অভিযোগ করে বলেন আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ দিলেও থানা কর্তৃপক্ষ সেটি আমলে না নিয়ে আমাদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে পরবর্তীতে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
এ সময় ভুক্তভোগীরা আরো বলেন, বিগত ৮ মাস যাবত আমরা তাদের থাকা খাওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে টাকা পাঠাচ্ছি। এ সমস্ত টাকা জোগাড় করতে আমাদের বিভিন্ন জায়গায় ধার দেনা করতে হচ্ছে। আমরা এখন মানবতার জীবনযাপন করছি। এ সময় তারা এনামুল খাঁ ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এনামুল খাঁ এর গ্রামের বাড়ি চরপুকুরিয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসরাইল, হাবিল খাঁ, লাখলু খাঁ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বৈঠক করলে সে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নেয়। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সে আমাদের সাথে আর দেখাও করে না এবং তাকে খুঁজেও পাওয়া যায় না। ধারণা করা হচ্ছে সে যে কোন সময় সৌদি আরব চলে যাবে।
ভুক্তভোগী রেহানা ছেলে হাবিব মোল্লা (মানিকদহ) ফাতেমা ছেলে মুহাম্মদ রোকন মোল্লা ও ময়না বেগম স্বামী শহিদুল ইসলাম রামপাল জানান, এনামুল খা তাদের কাছ থেকে বিদেশে নেওয়ার নাম করে ১০ লক্ষ টাকা নেন। সৌদি আরবে পাঠালেও তারা আকামা বা বৈধ চাকরির কোনো অনুমতি পাননি, ফলে সেখানে অমানবিক কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ খোকন মোল্লা অভিযোগ করেন, এনামুল খা প্রায় ছয় মাস আগে তার কাছ থেকেও ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেন। টাকা গ্রহণ করেন এনামুল খার স্ত্রী শিল্পী বেগম। কিন্তু টাকা ফেরত চাইতে গেলে দম্পতি দুর্ব্যবহার ও হুমকি প্রদান করেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল খা বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন, তবে যে কোনো সময় দেশ ত্যাগ করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেন, “আমরা সর্বস্ব হারিয়ে ন্যায্য বিচার চাইতে ঘুরছি, কিন্তু আজও কোনো সহায়তা পাইনি।”
আইনজীবীদের মতে, এনামুল খা ও তার সহযোগীদের কার্যক্রম “প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩” এবং “মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২” অনুযায়ী গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩ ধারা ৩১: প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো বা আকামা ছাড়া বিদেশে পাঠানো অপরাধ। শাস্তি: সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। ধারা ৩২: অনুমোদন ব্যতীত বিদেশে কর্মী পাঠানো অপরাধ। শাস্তি: সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। ধারা ৩৫: ভুয়া চুক্তি বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করে বিদেশে পাঠানোর অপরাধ। শাস্তি: সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ যদি বিদেশে নিয়ে শোষণ বা অমানবিক অবস্থায় ফেলে রাখা হয়, তবে তা মানব পাচার হিসেবে গণ্য হবে। ধারা ৭(১): শাস্তি: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code) ধারা ৪২০: প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া - সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা। ধারা ৪০৬: বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ - সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত এনামুল খা ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগমের বিরুদ্ধে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩১, ৩২, ৩৫ এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক : শেখ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, গোপালগঞ্জ সদর, গোপালগঞ্জ।
অফিস: ০২-৪৭৯৯৬১৪১, মোবাইল: ০১৯১১-৩৩২১৮৫, ইমেইল: mahbubpress66@gmail.com