যুগকথা রিপোর্টঃ
এক সময় পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। পাট ঘিরে কৃষকের স্বপ্ন —ফসল ঘরে উঠবে, বাজারে ভালো দাম মিলেছে , আর সেই টাকা দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মিটবে।
সম্প্রতি ভারি বৃষ্টি কারণে খাল, বিল ও বিভিন্ন জলাশয় নতুন পানিতে ভরে উঠেছে। পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার পানি পাওয়ায় চাষীরা এখন পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দাম ভালো পাওয়ায় তারা এবার লাভের আশা দেখছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে, এ বছর জেলায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন এর বেশি পাট উৎপাদন হয়েছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, কোথাও কৃষকেরা পাট কাটছেন, কোথাও জাগ দিচ্ছেন। আবার কোথাও কৃষকেরা পাটের আঁশ ছাড়িয়ে ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত। মাঠজুড়ে কৃষকরা এখন পাট ঘরে তোলার শেষ সময়ের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত আছে।
অপরদিকে চলতি মৌসুমে পাটের মান ভালো থাকায় পাটের ফলন আশানুরূপ। তবে সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। জেআরও-৫২৪ ও বিজেআরআই তোষা পাট-৮ জাতের পাট চাষ করেছেন কৃষকরা। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২ দশমিক ৮ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৩০০টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভাল ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। সারাদেশে জেলা উপজেলায় এ মৌসুমে ৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে ৪৩৫ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে।
জেলার একাধিক কৃষকগণ জানান, কয়েক বছর আগেও পাট চাষে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কাই ছিলো বেশি। কিন্তু এবার উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে দাম সন্তোষ জনক থাকায় পাট আবারো লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। তাই অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।বর্তমানে সোনালি আঁশ পাটের মৌসুম চলছে। গ্রামবাংলায় এখন এটি চিরচেনা দৃশ্যে মাঠে পাটচাষিরা জমি থেকে কাঁচা পাটগাছ কেটে কয়েকদিন জমিতে গুছিয়ে রাখে। এরপর পাটের পাতাগুলো ঝড়ে গেলে পানিতে ডুবিয়ে জাগ দেয়া। পানিতে থাকা অবস্থায় পচন ধরে পাটের সবুজ আঁশ নরম হয়। এরপর আঁশ ছাড়িয়ে নিলেই পাওয়া যায় সোনালি আঁশ।
পাটের জাগকে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখতে জাগের উপরে মাটি দিয়ে ভরা দিতে হয়। এতে পাট পানির নিচ থেকে উপরের দিকে উঠতে পারে না। সঠিকভাবে পানিতে ডুবাতে না পারলে পাটে পচন ধরে না। আর পচন না ধরলে আঁশে পরিণত হয় না। আর আঁশ না হলে ওই পাট দিয়ে কিছুই করা যায় না।
, একসময় পাটের চাষ করা হতো অন্য ফসল বাদ দিয়ে। দরপতন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও জাগ দেয়ার পানির সংকটে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন অনেক কৃষক। তবে এবার পরিস্থিতি বদলে গেছে। গত বছর থেকেই দাম বেড়ে যাবার ফলে এ বছর পাটের চাষ বেশি হয়েছে।
ভাল বাজার দর, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মত বৃষ্টিপাত, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি ভাল ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় আবারো সোনালি আঁশের এই অর্থকরী ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
এক কৃষক ছলেমান সেখ বলেন আগে পাটের দাম কম থাকায় চাষ কমিয়ে দিয়েছিলাম। এবার দুই বিঘা জমিতে পাট করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। আশা করছি আশানুরূপ মুনাফা আয় হবে।এবার পাটের ফলন বেশ ভাল হয়েছে। বাজারে দামও ভাল। শুধু পাটের আঁশ নয়, পাটকাঠিরও চাহিদা রয়েছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেনকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের , কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার সহযোগিতা দিচ্ছে। পাশাপাশি পাটের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে এবার পাটের আবাদ বেড়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২২০ কোটি টাকার পাট বিক্রি হবে এবার। আশা করছি, আগামী বছর পাটের আবাদ আরো ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে।
সম্পাদক : শেখ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, গোপালগঞ্জ সদর, গোপালগঞ্জ।
অফিস: ০২-৪৭৯৯৬১৪১, মোবাইল: ০১৯১১-৩৩২১৮৫, ইমেইল: mahbubpress66@gmail.com