যুগকথা প্রতিনিধিঃ
দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে ধুরাল খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া ও কুশলা ইউনিয়নের ধুরাল খাল খননের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি জেলায় ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল খননের কাজ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ধুরাল খাল পুনঃখননের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রায় ৪ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার খাল সংস্কারের এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে শ্রমিকদের মাধ্যমে মাটি কাটার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং বাকি অংশ খনন করা হবে যন্ত্রের সাহায্যে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। শুধু পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী।
মো. আরিফ-উজ্জ জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস হায়দার খান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম তারেক সুলতান, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকারিয়া ফেরদৌসসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
পরে প্রতিমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন।